ইরানের বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত সরকারের

চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী চলমান অস্থিরতার জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করে শাসক ব্যবস্থাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর সহিংসতা বৃদ্ধি

ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন পরই দেশজুড়ে নতুন করে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্রোহে রূপ দেওয়ার আহ্বান

ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র, যিনি বর্তমানে বিরোধী রাজনীতির একজন প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তিনি বিক্ষোভকে সরাসরি বিদ্রোহে রূপ দেওয়ার জন্য সবচেয়ে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

তার বক্তব্যে ধর্মীয় শাসকদের উৎখাত করার আহ্বান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

banner

রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা ও জানাজা সম্প্রচার

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজ-এ একটি পৌর ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জন্য দাঙ্গাকারীদের দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ।

একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শেষকৃত্যের ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ফুটেজ

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানে বিশাল জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে।

রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে, যা চলমান আন্দোলনের তীব্রতা ও বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।

বিক্ষোভের সূচনা ও রূপান্তর

২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলেও, খুব দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন সরাসরি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করছে।

banner

প্রাণহানি ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান

ইরানের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকদিনের সংঘাতে কমপক্ষে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।

একইসঙ্গে প্রায় ২,৩০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান এই বিক্ষোভ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংকেত বহন করছে। সরকারের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।