অত্যাবশ্যকীয় ২৯৫টি ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে এবং এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের ওষুধ বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্ত
সংবাদ সম্মেলনে ডা. সাইদুর রহমান বলেন, “অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের মানুষের ওষুধ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কোনো ওষুধ বিক্রি করা যাবে না।”
তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ
ডা. সাইদুর রহমান আরও বলেন, দেশের বাইরের বাজারের জন্য পিপিপি (Purchasing Power Parity) বিবেচনায় রেখে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই করে সরকার মূল্য নির্ধারণ করবে।
তিনি জানান, আন্ডার পেটেন্ট এবং আউট অব পেটেন্ট ওষুধের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
কয়েক দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে। ধাপে ধাপে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতা আরও বিস্তৃত করা হবে।
টাস্কফোর্স ও ড্রাগ প্রাইস অথোরিটি
ডা. সাইদুর রহমান বলেন, ওষুধের দাম নির্ধারণে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্স ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
তিনি বলেন, “এই টাস্কফোর্সই আপাতত ড্রাগ প্রাইস অথোরিটি হিসেবে কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অথোরিটিতে রূপ নেবে।”
ওষুধ প্রাপ্তির বাধা দূর হবে
ড্রাগ প্রাইস অথোরিটি কার্যকর হলে ওষুধের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট এবং বাজারে অনিয়ম অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তার মতে, এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের ওষুধ প্রাপ্তিতে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো ধীরে ধীরে কেটে যাবে।
স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধ বাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে।
ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকারও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তারা।

0 Comments