মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনো তেল বা অর্থ কিউবায় যেতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য দীর্ঘদিনের মার্কিন শত্রু কিউবার সঙ্গে বিরোধকে আরও তীব্র করেছে এবং দ্বীপটির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কড়া ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কিউবার নির্ভরতা
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ। দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থার একটি বড় অংশই কারাকাস থেকে আসা তেল ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে ফেলার ঘটনার পর থেকে কারাকাসের বন্দর থেকে কিউবার উদ্দেশ্যে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ যাত্রা করেনি।
ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অগ্রগতি
এদিকে, কারাকাস ও ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে একটি বড় চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের কথা রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
চুক্তির অর্থ মার্কিন ট্রেজারি-তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এটিকে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে উদীয়মান সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের কড়া বার্তা
রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না— শূন্য! আমি দৃঢ়ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই।”
একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, “কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল।”
কিউবার প্রেসিডেন্টের পাল্টা জবাব
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কিউবার ওপর কোনো চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ার নৈতিক অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে দিয়াজ-ক্যানেল লেখেন, “কিউবা একটি স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা কী করব, তা কেউ নির্দেশ দিতে পারে না।”
‘রক্তের শেষ ফোঁটা পর্যন্ত প্রতিরোধ’
কিউবার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “কিউবা আক্রমণ করে না। বরং ৬৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে। কিউবা হুমকি দেয় না; তবে মাতৃভূমি রক্ষায় রক্তের শেষ ফোঁটা পর্যন্ত লড়তে প্রস্তুত।”
চুক্তির বিস্তারিত অনুপস্থিত
ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার ওপর এই চাপ মূলত লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের কৌশলেরই অংশ।
এটি পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা
ভেনেজুয়েলার ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর থেকেই কিউবার ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা বেড়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য আরও কঠোর করেছেন, যদিও ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা চলে আসছে।

0 Comments