কারফিউ জারি করে সংঘটিত জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানের পক্ষে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে তাদের আইনজীবীরা এ শুনানিতে অংশ নেবেন।

এর আগে মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করে বিচার শুরুর জন্য আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বলা হয়, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিচারযোগ্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে তা প্রমাণের যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই মাসে কারফিউ জারি করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন অভিযুক্তরা। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যাযজ্ঞ চলাকালে গণভবনে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে উসকানি দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কারফিউ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এও আজ গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম রয়েছে। কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

একইসঙ্গে বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আজ চতুর্থ দিনের মতো সাক্ষ্য প্রদান করবেন। এই সাক্ষ্য মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জুলাই হত্যাযজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম নতুন করে গতি পেয়েছে। এসব মামলার মাধ্যমে অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে উঠে আসছে।

banner