২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ২০২২ সালের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ।

মাহসা আমিনি আন্দোলনের স্মৃতি

২০২২ সালে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনি-র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ও প্রাণঘাতী বিক্ষোভ। সেই আন্দোলনে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ, নারীর অধিকার, কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ব্যাপক জনরোষ প্রকাশ পায়।

বহুদিন পর বর্তমান আন্দোলন সেই সময়ের স্মৃতি আবারও উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের আন্দোলনের পর এত বড় পরিসরে সরকারের বিরুদ্ধে জনসমাবেশ আর দেখা যায়নি।

এবারের আন্দোলনের ব্যতিক্রমী দিক

এবারের বিক্ষোভের একটি উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রমী দিক হলো, এর সূচনা করেছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ঐতিহ্যগতভাবে ইরানের বাজার বা ‘বাজারি’ শ্রেণি দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। কারণ অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনে এই শ্রেণির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

বর্তমান বিক্ষোভ এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন ইরান ক্রমবর্ধমান পশ্চিমা হুমকির মুখে রয়েছে। মাত্র ছয় মাস আগেই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে বৈঠকের কয়েকদিন পরই এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

খামেনি প্রশাসনের চাপে জনরোষ

অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এসব ইস্যুতে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রশাসনকে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইন্টারনেট বন্ধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আরও বড় জনঅসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০২২ সালের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার আরও কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। তবে অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে এই বিক্ষোভ কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, তা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

সব মিলিয়ে, চলমান আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।