ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর অপহরণের ঘটনার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘আসুন, তুলে নিয়ে যান আমাকে। আমি আপনার জন্য এখানেই অপেক্ষা করছি।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের মার্চে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার’ অভিযোগ আনা হয়। একইসঙ্গে মাদুরোকে আটক করতে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প।
পরবর্তীতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পর গত আগস্টে এই পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে পাঁচ কোটি ডলার করা হয়। একই সময় ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়, যা পুরো লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ভেনেজুয়েলায় মধ্যরাতে মার্কিন হামলা
কয়েক মাসের হুমকি ও চাপের পর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের বাসভবন থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনা হয়।
প্রথমে হেলিকপ্টার এবং পরে বিশেষ বিমানে করে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বর্তমানে তাদের একটি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ‘এখন থেকে ভেনেজুয়েলা আমেরিকাই চালাবে’। পাশাপাশি দেশটির বিশাল তেলভাণ্ডারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বও ঘোষণা করেন তিনি।
শুধু ভেনেজুয়েলাই নয়, কলম্বিয়া ও কিউবাকেও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কলম্বিয়ায় একজন অসুস্থ ব্যক্তি দেশ চালাচ্ছেন, যিনি কোকেন তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।’
পেত্রোর পাল্টা হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। হুঁশিয়ারি দিয়ে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেন, ‘যদি তারা বোমা হামলা চালায়, তাহলে কৃষকরা পাহাড়ে হাজার হাজার গেরিলাতে পরিণত হবে। আর যদি তারা এমন একজন প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করে, যাকে দেশের একটি বড় অংশ ভালোবাসে, তাহলে তারা আমাদের জনগণের ভেতরের যোদ্ধাকে জাগিয়ে তুলবে।’
সাবেক বামপন্থি গেরিলা নেতা পেত্রো আরও বলেন, ‘আমি আর কখনও অস্ত্র স্পর্শ না করার শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু মাতৃভূমির জন্য প্রয়োজনে আমি আবার অস্ত্র হাতে তুলে নেব।’ তার এই বক্তব্য লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মাদুরোর আগের চ্যালেঞ্জ
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের আগে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও ট্রাম্পকে একই ধরনের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আসো, আমাকে ধরো। আমি তোমার জন্য মিরাফ্লোরেসে অপেক্ষা করব। দেরি করো না, কাপুরুষ।’
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং কলম্বিয়ার প্রতি প্রকাশ্য হুমকি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিক্রিয়াকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এতে গোটা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

0 Comments