‘পোস্টাল ব্যালটে ভূতের আছর’, ‘১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ’
এক নজরে দেশের শীর্ষ সংবাদপত্রের আলোচিত প্রতিবেদন

প্রতিদিন দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। রাজনৈতিক উত্তাপ, নির্বাচনী প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিশ্বরাজনীতির প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে সংবাদমাধ্যম হয়ে ওঠে সময়ের দর্পণ। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রে প্রকাশিত আলোচিত শিরোনাম ও প্রতিবেদনগুলো এক নজরে তুলে ধরা হলো।

১১ দলীয় জোটে আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা নাটকীয়তার পরও শেষ পর্যন্ত ঘোষিত হয়নি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় সেটি স্থগিত করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন না—এমন ঘোষণার পর দুপুর ২টার দিকে জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্মেলন স্থগিতের কথা জানানো হয়। এতে করে জোটের ভেতরে থাকা মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একই দিনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস নিজ নিজ কার্যালয়ে বৈঠক করে আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আলাদা আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলগুলো ‘একক ভোট বাক্স’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতার কথা জানালেও প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন না পাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা, জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করছে। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, এসব প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারলে নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক ও শঙ্কা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট দিতে ১৫ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবাসী ভোটার, দেশে থাকা সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দিরা এই পদ্ধতিতে ভোট দেবেন।

তবে পোস্টাল ভোটকে ঘিরে ইতোমধ্যে জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিও দেখে অনেকে মন্তব্য করছেন, এই ভোট ব্যবস্থায় ‘ভূতের আছর’ পড়েছে। প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে পোস্টাল ভোটের আয়োজন শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের প্রতীকের অবমূল্যায়ন হয়েছে দাবি করে বিএনপি নতুন করে ব্যালট ছাপানোর কথা বলেছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের একসঙ্গে অনেক পোস্টাল ব্যালট নিয়ে করা ভিডিওগুলোর বিষয়ে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ধীরগতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আবারও জোরদার হতে পারে।

banner

সব মিলিয়ে, দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি এখন এক সংবেদনশীল সময় পার করছে। নির্বাচন, জোট রাজনীতি, পোস্টাল ভোট বিতর্ক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ—সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।