মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে আবেদন শুরু ১৯ জানুয়ারি, শেষ হচ্ছে কবে?
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার | প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে চলমান জনবল সংকট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিশেষ কোটা আবেদন প্রক্রিয়া ও নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন)। এই বিশেষ আবেদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ১৯ জানুয়ারি ২০২৬।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাইকরণের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সময়সীমা চলবে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়ান স্টপ সেন্টার (OSC)-এ সরাসরি উপস্থিত হওয়ার আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই অনলাইনে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

নিয়োগকর্তারা ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই নির্দিষ্ট লিঙ্কের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারবেন:
https://que05-my.qbe.ee/KDN-OSC

যেসব খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কিছু খাতে শর্তসাপেক্ষে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদিত খাতগুলো হলো—

  • সেবা খাত: পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ল্যান্ড ও ওয়্যারহাউস, সিকিউরিটি গার্ড, অনুমোদিত মেটাল ও স্ক্র্যাপ ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, লন্ড্রি এবং কার্গো হ্যান্ডলিং।
  • উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং): বিদ্যমান কারখানার কর্মী প্রতিস্থাপন এবং মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) অনুমোদিত নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প।
  • নির্মাণ: শুধুমাত্র সরকারি বা জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্প।
  • কৃষি ও বাগান: মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, শস্য চাষ এবং সব ধরনের প্ল্যান্টেশন।
  • খনি: খনিজ ও পাথর উত্তোলন খাত।

কঠোর শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • কর্মী প্রতিস্থাপন: রেস্টুরেন্ট ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য ২০২৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এবং কার্গো সেবার ক্ষেত্রে ২০২১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ‘চেক-আউট মেমো’ থাকতে হবে। ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে সত্যায়িত চেক-আউট মেমো ও কর্মী মালয়েশিয়া ত্যাগের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • নির্মাণ খাত: আবেদন করতে পারবেন শুধুমাত্র মূল ঠিকাদার বা মনোনীত সাব-কন্ট্রাক্টর। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের নিশ্চিতকরণ পত্র জমা দিতে হবে।
  • নতুন প্রকল্প: ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ১ জানুয়ারি ২০২৩-এর পর এমআইডিএ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নতুন বা সম্প্রসারিত প্রকল্পগুলোই আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

আবেদন ফরম ও যোগাযোগ

আবেদন ফরম, বিস্তারিত যোগ্যতা ও নীতিমালা সম্পর্কে জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.moha.gov.my-এর ‘Immigration Affairs’ লিঙ্কে ভিজিট করতে বলা হয়েছে।

banner

এছাড়া সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে—
ওয়ান স্টপ সেন্টার (OSC)
বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ
লেভেল ৫, সেতিয়া পারকাসা ৯, পুত্রজায়া

বিশেষজ্ঞদের মতামত

শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুনির্দিষ্ট কোটা ও কেস-বাই-কেস পদ্ধতির ফলে মালয়েশিয়ার সেবা, নির্মাণ, কৃষি ও উৎপাদন খাতে চলমান কর্মী সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম কমে শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।