প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে দেশের সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসু পাঠকদের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ প্রতিদিনের মতো আজও দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন এক নজরে তুলে ধরছে।
নির্বাচনে চাঙা অর্থনীতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা
শীর্ষ পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে চাঙা হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতি। নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বাণিজ্যিক লেনদেনও। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রার্থী, তাদের ধনাঢ্য সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনের খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ব্যয় নির্বাহ করতে প্রবাসীরাও দেশে অতিরিক্ত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এতে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়লেও এর বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এর প্রভাবে নির্বাচনী মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যেতে পারে।
কৃষি খাতে সংকট, উৎপাদনশীলতা কমছে
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দেশের কৃষি খাতের গভীর সংকটের চিত্র। প্রতিদিনই কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। প্রায় ৫৬ শতাংশ কৃষিজমি উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। ৪০ শতাংশ কৃষক পরিবার ভূমিহীন বর্গাচাষী এবং দেশের অর্ধেক কৃষকই ন্যায্য মজুরি পান না।
যাদের হাতে বেশি জমি, তাদের অনেকেই সরাসরি কৃষিকাজ করেন না। একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে কৃষক ফসলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না। বীজ, সার ও কীটনাশকের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণে কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানির ওপর। যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধি কমছে, অথচ খাদ্যশস্য আমদানি বাড়ছে। বিপরীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, ড্রোন, স্মার্ট সেচ ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে সফলতা দেখাচ্ছে। নীতি সংস্কার ও সরকারি সহায়তাই সেখানে মূল চালিকাশক্তি।
পোস্টাল ভোটই বড় চ্যালেঞ্জ ইসির জন্য
আসন্ন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া পোস্টাল ভোট নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভোট ব্যবস্থাকে ঘিরে ইতোমধ্যে জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ ভোটপ্রক্রিয়ায় ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গোপন কক্ষে ভোট দেন। কিন্তু পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার ভোটের অনেক আগেই ভোটারের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, যা ভোটের গোপনীয়তা ভঙ্গের ঝুঁকি তৈরি করছে। বাহরাইন ও ওমান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি-জামায়াতের হিসাব
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও সংবাদপত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মাঠপর্যায়ের কৌশল আলোচনার কেন্দ্রে।
বিএনপির প্রার্থী আলহাজ এরশাদ উল্লাহ বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় স্বস্তিতে থাকলেও দলীয় কোন্দল প্রকট। সাবেক মন্ত্রী এম মোর্শেদ খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান এবং নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ—এই তিন গ্রুপের দ্বন্দ্ব ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয়।
১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ, ঝুলে থাকল ৪৭ আসন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। অসন্তোষ রেখেই সমঝোতার চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
ফলে ৪৭টি আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অসন্তোষ নির্বাচনের মাঠে জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

0 Comments