ইয়েমেনে চলমান সংঘাত বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত বিমানে ওঠেননি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি। পরিবর্তে তিনি অজানা গন্তব্যে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি-সমর্থিত জোট।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোট এ তথ্য জানায়। এই ঘটনায় ইয়েমেনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
রিয়াদে যাওয়ার কথা থাকলেও বিমানে ওঠেননি জুবাইদি
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে ইয়েমেনের এডেন শহর থেকে একটি বিশেষ বিমানে রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির। সেখানে তার দল এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বিমানবন্দরে উপস্থিত হননি। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষার পর জুবাইদিকে ছাড়াই বিমানটি যাত্রা শুরু করে।
জোটের বক্তব্য
জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে জানান, “বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যক সিনিয়র নেতাকে বহনকারী বিমানটি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও আল-জুবাইদি সেখানে উপস্থিত হননি। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।”
জোটের পক্ষ থেকে এটিকে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টায় গুরুতর বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশাল বাহিনী সংগঠনের চেষ্টা?
পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, জুবাইদি বর্তমানে একটি বিশাল বাহিনী সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এতে করে দক্ষিণ ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের পটভূমি
সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি এবং ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে গত মাসে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে সৌদি আরব মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়।
ইয়েমেন সরকার কয়েকদিন আগেই রিয়াদকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইস্যুতে আলোচনার জন্য একটি ফোরাম আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল।
উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে দ্বন্দ্ব
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মধ্যে মতবিরোধের ফলে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গঠিত সামরিক জোট কার্যত ভেঙে পড়েছে। অথচ হুতিরাই এখনো ইয়েমেনে সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে টিকে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভক্তি হুতিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
জোটের পাল্টা বিমান হামলা
জুবাইদির পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর সৌদি-সমর্থিত জোট ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-ধালিয়ায় সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।
জোট দাবি করেছে, এই হামলা ছিল কৌশলগত এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে।
হুতি বিদ্রোহীদের ভূমিকা
উল্লেখ্য, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলো সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধ ইয়েমেনকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
শান্তি আলোচনার এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসটিসি নেতার এই অনুপস্থিতি ইয়েমেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।

0 Comments