আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ ও আইসিসিকে কেন্দ্র করে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশ না নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আইসিসি র্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিসিসিআই সচিব ও আইসিসির প্রভাবশালী সদস্য জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসির একটি মহল এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইছে।
কোথা থেকে শুরু হলো বিতর্ক?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও খেলোয়াড়দের শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে ভারতে সফর নিয়ে কিছু শর্ত উত্থাপন করে। এরই মধ্যে আইসিসি থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিরিজে অংশ না নিলে বাংলাদেশকে র্যাংকিং পয়েন্ট ও ম্যাচ ফি হারাতে হতে পারে।
আইসিসির অবস্থান কী?
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশ নির্ধারিত আন্তর্জাতিক সিরিজে বৈধ কারণ ছাড়া অংশ না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- আইসিসি র্যাংকিং পয়েন্ট কর্তন
- আর্থিক জরিমানা
- ভবিষ্যৎ সূচিতে প্রভাব
তবে সমালোচকদের দাবি, বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি নিয়ম প্রয়োগ করা হয় না।
জয় শাহকে ঘিরে অভিযোগ
ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের একটি অংশ মনে করছেন, বিসিসিআইয়ের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে আইসিসির সিদ্ধান্তে জয় শাহর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাদের মতে, ভারত সফর নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
যদিও জয় শাহ বা আইসিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার করা হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও দেশের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রধান।”
বিসিবি জানিয়েছে, তারা আইসিসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চায়।
ক্রিকেটবিশ্বে প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সাবেক ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, আইসিসি কি সত্যিই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে?
কেউ কেউ এটিকে ছোট দেশগুলোর ওপর বড় বোর্ডগুলোর আধিপত্যের আরেকটি উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেছেন।
সামনের করণীয় কী?
এখন বাংলাদেশের সামনে বড় সিদ্ধান্ত। একদিকে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতা। বিসিবি ও আইসিসির আলোচনার ফলের দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে, নাকি আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে— সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

0 Comments