প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে পরিবারসহ যমুনায় তারেক রহমান
রাজনৈতিক প্রতিবেদক | ১৫ জানুয়ারি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর এটিই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছায়। এর আগে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তিনি রাজধানীতে নিজ বাসভবন থেকে যমুনার উদ্দেশে রওনা হন।

এ সৌজন্য সাক্ষাতে তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জায়মা রহমান। সপরিবারে এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌহার্দ্যের একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন উপদেষ্টা এদিন বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সমসাময়িক ইস্যুতে এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

দেশে ফেরার পর প্রথম সাক্ষাৎ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতির মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো।

এর মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলোচনার সংস্কৃতি আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ, তবুও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লন্ডনের বৈঠকের ধারাবাহিকতা

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে লন্ডনে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

সেই বৈঠকে আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয় বলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমান সাক্ষাৎকে অনেকেই লন্ডনের সেই বৈঠকের একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।

ফেরার দিন ফোনালাপ

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করলে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ হয়। ওই ফোনালাপে কুশল বিনিময় ছাড়াও সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়।

banner

রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে। এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার পথকে কতটা সুগম করে—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।