ইরানে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে ঘিরে টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে অনলাইন পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস। সংস্থাটি জানায়, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে শুধু ইন্টারনেট নয়, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই ইন্টারনেট বন্ধ

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাতে রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলাকালে হঠাৎ করেই ইন্টারনেট সংযোগ অকার্যকর হয়ে পড়ে। মোবাইল ডাটা, ব্রডব্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক কলিং সেবায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আন্দোলনের ছবি, ভিডিও ও তথ্য যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে উদ্দেশ্যেই এই ডিজিটাল অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।

বহির্বিশ্বের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন ইরান

নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ—সবকিছুর সঙ্গেই ইরানিদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট বন্ধের এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও ব্যাপক জনরোষ তৈরি করতে পারে, যা খামেনি প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

১২ দিনে গড়ানো সহিংস বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ১২ দিনে গড়িয়েছে ইরানের চলমান বিক্ষোভ। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশব্যাপী গণঅসন্তোষে রূপ নিয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

প্রাণহানি ও বিস্তৃত আন্দোলন

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ছাড়াও সাধারণ পথচারীরাও রয়েছেন বলে অভিযোগ।

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশেরই প্রায় সাড়ে ৩শ’ স্থানে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও বিভিন্ন প্রাদেশিক শহর ও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

ডিজিটাল অবরোধ ও সরকারের কৌশল

অতীতেও বিভিন্ন সংকটের সময় ইরান সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে আন্দোলন দমনের কৌশল নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

banner

কোন পথে যাচ্ছে ইরান?

অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংস বিক্ষোভ এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা— সব মিলিয়ে ইরান এক গভীর সংকটের মুখে। সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে।

পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে এই আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।